জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা ও লাইব্রেরি উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা ও লাইব্রেরি উন্নয়নে  সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর

 

সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মা। সংস্কৃতির মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত অন্তর্নিহিত রূপ এবং মানবিক চেতনার বিকাশ ঘটে। আমাদের ভূখণ্ড গান, ধান আর নদীর দেশ। এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে আমাদের পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। 

আজ ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিগত দিনগুলোতে একটি সর্বগ্রাসী ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কাঠামোকে তছনছ করে এক চরম ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী স্বৈরশাসন দেশের নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। এমনকি আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও শিক্ষা ব্যবস্থাকেও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। তিনি প্রাচীন ইতিহাসের স্বৈরশাসক ও পাঠাগার ধ্বংসকারীদের উদাহরণ টেনে বর্তমান প্রজন্মকে এই ফ্যাসিবাদের কুফল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। 

         

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক দর্শন ও ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, নজরুলকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু নজরুল ছিলেন সর্বহারা ও শোষিত শ্রেনির কণ্ঠস্বর। তাঁর বিদ্রোহ ও কবিতা চিরকাল আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সাথে তিনি রবীন্দ্রনাথের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়নে তাঁর অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন। 

 

বাংলাদেশের নৃ-তাত্ত্বিক বৈচিত্র্য ও জাতীয়তাবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের সমতল ও পাহাড়ে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। আমাদের সরকার ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ নীতিতে বিশ্বাসী, যা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি।     

     

মন্ত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, বরং প্রকৃত মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। দেশ ও নিজেদের ঐতিহ্যকে জানতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিধি বাড়াতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আর্থিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।          

 

এ সময় মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। 

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 

 

সূত্রঃ পিআইডি